নেশার ফল কি, নেশা কাটানোর উপায়, নেশা ছাড়ার ঔষধ এবং নেশা থেকে মুক্তির দোয়া

নেশার ফল মানে হচ্ছে, এই জীবনকে তিলে তিলে শেষ করে দেওয়া।  অর্থাৎ প্রতিটি মানুষ এই সুন্দর পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেই আলো বাতাসের মধ্যে সুন্দরভাবে জীবন যাপন করে জীবনটা উপভোগ করতে চায়। কিন্তু চাওয়া-পাওয়া এই খেলার ওপর নির্ভর করে মানুষ বাধাগ্রস্ত হয় বিভিন্নভাবে বিভিন্ন পথ অতিক্রম করে থাকে।

তারই ধারাবাহিকতায় প্রধান একটি অংশ হচ্ছে নেশা। নেশার উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না আবার এর অপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। যেমন ধরুন, আমরা এই পৃথিবীতে কোনো না কোনো এক পরিবারের মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করে এই দুনিয়াতে প্রভাব বিস্তার করে থাকি। সে ক্ষেত্রে একজন মানুষ তার পরিবারের প্রতি ভালবাসার নেশা,

সমাজের প্রতি ভালবাসার নেশা, দেশ ও জাতির প্রতি ভালবাসার নেশা, এবং সর্বোপরি সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভালবাসার নেশা উপরোক্ত এইগুলি একজন প্রকৃত মানুষ, মানুষের মত মানুষ হয়ে বেঁচে থাকে। যার ফলশ্রুতিতে মানুষ চির অমর হয়ে থাকে পৃথিবীতে প্রত্যেকটি মানুষের অন্তরে।

আবার ধরুন, যে নেশা তার জীবনকে তিলে তিলে শেষ করে দেয় তথা তাঁর পরিবার দেশ জাতি ও সমাজকে। নেশা হচ্ছে আপনার যেকোন হারাম জাতীয় দ্রব্য পান করা অর্থাৎ ধূমপান করা, মদ পান করা ইত্যাদি ইত্যাদি।

নেশা কাটানোর উপায়

মানবজীবনের বিপদজনক একটি সংকেত  নেশা।যা একজন মানুষকে তার পরিবার সমাজ দেশ ও জাতির কাছ থেকে ধ্বংসের দিকে অগ্রসর হতে শেখায়। এছাড়া প্রচলিত একটি প্রবাদ বাক্য আছে যদি কোন পরিবারে একজন নেশা করে ওই পরিবারটি ধ্বংসের জন্য ওই একজনই যথেষ্ট। তাই আসুন এখান থেকে কিভাবে সমাধানের পথ পাওয়া যায় সে সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন  করলাম।

প্রথমত এখান থেকে আমরা সমাধানের পথ বিভিন্ন ভাবে গ্রহণ করতে পারি। অর্থাৎ যখন একজন মানুষ  নেশায় এডিক্টেট হয়ে যায় তখন ওই ব্যক্তিদের পরিবার থাকে চরম আতংকের মধ্যে অর্থাৎ যেকোনো সময় যেকোনো মুহূর্তে বিপদজনক ঘটনা ঘটিয়ে থাকে অ্যাডিক্টেড ব্যক্তি।

সেখান থেকে উক্ত ব্যক্তিকে সরানোর জন্য বিভিন্ন পদ অবলম্বন করতে হবে অর্থাৎ সে যেন মানসিকভাবে সুস্থ থাকে এই সুস্থ থাকার জন্য তাকে সর্বোচ্চ সম্মান দেখিয়ে তাকে ভালো সৎকাজের উপদেশ দিয়ে তা বাস্তবে রূপদান করানোর জন্য তার সাথে যথেষ্ট সময় দিয়ে তাকে ভয়ংকর ওই অভ্যস্ত জায়গা থেকে ধীরে ধীরে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

তবে বিষয়টি যতটা সহজ মনে করেন ততটা সহজ না তাই অত্যন্ত দায়িত্ব সহকারে উক্ত ব্যক্তিকে দিয়ে তার ধর্মের প্রতি অনুসরণ করে ধর্মের ভালো ভালো কাজগুলি তাকে দাড়া করানো এবং কোন কাজে সে বেশি কষ্ট পেয়ে থাকে সেই কাজ থেকে তাকে দূরে রাখা এবং যেখানে সময় দিতে সে আনন্দ অনুভব করে উক্ত জায়গায় তাকে নিয়ে বেড়াতে যাওয়া।

এবং বাস্তব সম্পর্কে বাস্তব কিছু তথ্য তার সামনে উপস্থাপন করে বিভিন্ন যুক্তি দেখিয়ে তাকে বোঝাতে হবে। এবং তার সকল চাওয়া পাওয়া এবং চাহিদাগুলো তার কাছ থেকে দিকনির্দেশনা নিয়ে উক্ত কাজের পজিটিভ রেজাল্ট তার কাছে উপস্থাপন করে সেখান থেকে তাকে সরিয়ে নিয়ে আসতে হবে।

এবং অ্যাডিক্টেড ব্যক্তি তার এই অভ্যাস দূর না হওয়া পর্যন্ত শারীরিক এবং মানসিকভাবে তাকে কখনোই প্রেসার ক্রিয়েট করা যাবে না। এতে করে হিতে বিপরীত হয়ে যেতে পারে। তাই আপনি তাকে এই খারাপ অভ্যাসগুলো থেকে সরিয়ে আনতে যে বিষয়গুলি আলোচনা করা হল উক্ত বিষয় গুলি অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে কাজ করে যেতে হবে।

নেশা ছাড়ার ঔষধ

নেশা ছাড়ার ঔষধ মূল্যবান একটি বিষয়। এখানে ঔষধ বলতে মূলত বিভিন্ন ফার্মেসি থেকে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা কে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকা হয়। তবে এই পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই আপনাকে অবশ্যই অ্যাডিক্টেড ব্যক্তিটিকে উক্ত বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করে তাকে পজেটিভ এর মাধ্যমে আনতে হবে।

তারপর আপনাকে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করার পরামর্শ দিতে হবে। অন্যথায় শুধু ওষুধ সেবন করলে সেখান থেকে মুক্তি পাওয়ার সবচাইতে কঠিন এবং পরবর্তীতে সে আবার ওই রাস্তায় দাবিতে হয়ে থাকে।

নেশা থেকে মুক্তির দোয়া

নেশা থেকে মুক্তির দোয়া শুধু মুখে বললে হবে না এর গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিয়ম নীতি অনুসরণ করে পড়তে হবে নিচে উপস্থাপন করলাম দেখুন। প্রথমত আপনাকে পাক-পবিত্র হয়ে তারপর অজু করে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ঘর তথা মসজিদ ঘরে প্রবেশ করে আল্লাহতালার কাছে প্রার্থনার মাধ্যমে সঠিক ভাবে তওবা করে নিয়ে তারপর প্রার্থনা শেষ করে,

এই (اَلْبَرُّ) ‘আল-বার্‌রু দোয়াটি আপনাকে অন্তত 7 বার অন্তরের অন্তরস্থল থেকে পড়তে হবে।এবং পরবর্তীতে যাতে এই পথে আপনি পা না বাড়ান। উক্ত বিষয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে অত্যন্ত দৃঢ়তার সহিত অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে। তবেই আল্লাহপাক আপনাকে এই সমস্ত পাপ কাজ থেকে চিরতরে মুক্তি দিয়ে শয়তানের হাত থেকে ফিরিয়ে আনবে সুপথে।

পরিশেষে

উপরে উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলি চেষ্টা করেও যদি কোন ফল পাওয়া যায় তবে সর্বশেষ চিকিৎসা হচ্ছে তাকে যে কোন ভালো মানের রিহ্যাব সেন্টারে ভর্তি করিয়ে দিয়ে তার সেবা যত্ন এবং খোঁজখবর নিয়ে তাকে ভালো রাখার জন্য একটি সমাধান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *