stadiam7

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের তালিকা এবং স্টেডিয়ামের ইতিহাস

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের তালিকা বিভিন্নভাবে যারা তথ্য অনুসন্ধান করে থাকেন তাদের জন্য আজকের বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম এর গুরুত্বপূর্ণ সকল তালিকা এবং কোন স্টেডিয়ামে দর্শক ধারন ক্ষমতা কতটুকু ? এবং উক্ত ইসটুডিয়াম গুলি কত তারিখে উদ্বোধন করা হয় ? এবং কখন, কোন সময়, বিভিন্ন বিশ্বকাপের আন্তর্জাতিক খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এবং স্টেডিয়ামের সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করা হলো। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের তালিকা

শের-ই- বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম

stadiam1

শের-ই- বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত।স্টেডিয়ামটি মিরপুরের 6 নং সেক্টরে অবস্থিত। এটি বর্তমানে শুধুমাত্র ক্রিকেট মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্টুডিয়াম এটি মূলত 2006 সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এছাড়া এই স্টেডিয়ামে সরাসরি ক্রিকেট প্রেমী দর্শকরা অত্যন্ত আকর্ষণীয় পরিবেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্রিকেট খেলা তথা আন্তর্জাতিক ম্যাচ গুলো উপভোগ করতে পারে।

এবং প্রায় 26 000 দর্শকের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে।শুরুতে এই স্টেডিয়ামের নামকরণ করা হয়েছিল মিরপুর জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম। পরবর্তীতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে স্টেডিয়ামটির নাম রাখা হয় শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম।উল্লেখ্য যে, এই মাঠে প্রথম শ্রেণীর  একদিনের ক্রিকেট, টেস্ট ম্যাচ এবং t20 ম্যাচ গুলোর খেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

এছাড়া 2011 সালে বিশ্বকাপ একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যতম ভেন্যু হিসেবে খেলা অনুষ্ঠিত হয়।এই মাঠে বিগত খেলাগুলো বিশ্লেষণ করে পরিসংখ্যান মতে বোলিং বান্ধব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে সে ক্ষেত্রে এই মাঠে বিপিএল ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম

stadiam2

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম আইসিসি অনুমোদিত টেস্ট প্লেয়িং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠ সমূহের মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য একটি মাঠ।এটি বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন ইসটুডিয়াম হিসেবে পরিচিত ছিল।এছাড়া স্টেডিয়ামটি 2006 সালের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে থাকে।

বাংলাদেশের এই মাঠে 2004 সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব 19 বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলা অনুষ্ঠিত হয়।মূলত ওই বিশ্বকাপের উদ্দেশ্যে  মাঠটি পরিপূর্ণভাবে সংস্করণ করে তৈরি করা হয়েছিল।বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অংশের বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সাগরিকায়  মাঠটি অবস্থিত।

2011 সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের দুটি খেলা অনুষ্ঠিত হয় এই মাঠে।উল্লেখ্য যে, এই মাঠের পাশেই রয়েছে পৃথিবীর সেরা বিখ্যাত অন্যতম সমুদ্র সৈকত।এছাড়া এই মাঠে প্রায় 22000 দর্শক ধারণ ক্ষমতা রয়েছে।উল্লেখিত এই মাঠে বিপিএলের বেশকিছু ম্যাচ খেলা অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া বাংলাদেশের বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার বলা হয়ে থাকে চট্টগ্রামকে।এবং উল্লেখযোগ্যভাবে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত চট্টগ্রামে অবস্থিত।পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে সকল প্রকার ব্যবসায়ী কার্যকলাপের বিক্রিতে ভিত্তিতে অধিকাংশ কাঁচামাল আমদানি রপ্তানি করা হয়ে থাকে বিভিন্ন জাহাজের মাধ্যমে সমুদ্রপথে। তারই প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে চট্টগ্রাম বন্দরনগরীতে। যার ফলে, অত্যন্ত জনপ্রিয় আকর্ষণীয় একটি স্টেডিয়াম মাঠ তা হচ্ছে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম মাঠ।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম

stadiam3

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম হচ্ছে সিলেটের একটি বহুমুখী স্টেডিয়াম।এছাড়া এই মাঠের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে বিভিন্ন সৌন্দর্যের নয়ন বিরাম পাহাড়গুলি এবং সবুজ চা পাতার বেষ্টনী দিয়ে এতটাই সৌন্দর্য প্রকাশ করে থাকে যা সত্যিকার অর্থে অত্যন্ত আনন্দদায়ক পরিবেশ।

স্টেডিয়ামটি  আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কিছুটা দূরত্বে অবস্থিত।এছাড়া এটি 2007 সালে স্থাপিত হয়েছে।উল্লেখিত মাঠ সচরাচর ক্রিকেট খেলার জন্য সর্বোচ্চ ব্যবহৃত হয়ে থাকে এবং সেইসাথে এখানে ফুটবল খেলাও অনুষ্ঠিত হয়।উল্লেখ্য যে, 615 ফুট দৈর্ঘ্য এবং 485 ফুট প্রস্থ নিয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বড় একটি ক্রিকেট মাঠ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

এছাড়া 2014 সালে টি 20 বিশ্বকাপের মাঠে হিসাবে স্টেডিয়ামকে নির্বাচিত করে থাকেন বিসিবি।এছাড়া এই মাঠে ইংল্যান্ড লায়ন এর সঙ্গে বাংলাদেশ এ দল এবং ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব 19 দলের সঙ্গে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব 19 দলের বিভিন্ন খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।এছাড়া নারী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট এবং জাতীয় লিগের খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিভাগীয় এই মাঠে।

উল্লেখিত এই মাঠে দর্শক ধারন ক্ষমতা প্রায় 18500।এই মাঠের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে, বিভিন্ন চা-বাগানের সবুজ নয়ন বিরাম দৃশ্য দেখে ক্রিকেটপ্রেমী অনুরাগীরা সত্যিকার অর্থে এতটাই মুগ্ধ হয়ে থাকে, যা অন্যান্য স্টেডিয়ামের চেয়ে তুলনামূলক অনেক বেশি।এই  মাঠেও  বিপিএল টুর্নামেন্ট 2022 এর গুরুত্বপূর্ণ অধিকাংশ খেলা অনুষ্ঠিত হবে। 

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম

stadiam4

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম 1954 সালে নির্মিত করা হয়েছে।স্টেডিয়ামটি ঢাকার প্রাণকেন্দ্র মতিঝিল এলাকায় অবস্থিত। এছাড়া এটি বাংলাদেশের জাতীয় এবং প্রধান স্টেডিয়াম হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। স্টেডিয়ামটি প্রধানত এর পূর্বে এবং বর্তমান সময়ে অবধি পর্যন্ত এক নম্বর জাতীয় স্টেডিয়ামে হিসেবে পরিচিত।

এটির নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের সম্মান এর ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু নাম যোগ করা হয়। পূর্বে  এই স্টেডিয়ামে সব ধরনের খেলা অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু বর্তমান এটি ফুটবল খেলার মাঠে হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া এই স্টেডিয়ামে দর্শক ধারণক্ষমতা প্রায় ৩৬০০০।

এছাড়া এটি 2005 সালের পহেলা মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম  মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম বিশ্বের একমাত্র ইসটুডিয়াম যেখানে দুটি ভিন্ন দেশের উদ্বোধনী টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুটি খেলাতেই প্রতিপক্ষ ছিল ভারত। 

প্রথম খেলায় 1954-55 সালে তৎকালীন অবিভক্ত পাকিস্তান দল ভারতের বিপক্ষে টেস্ট খেলার মাধ্যমে টেস্ট ক্যারিয়ার অঙ্গনে যাত্রা শুরু করে। 1971 সালে এই মাঠে “ইন্টারন্যাশনাল ইলেভেন” এর বিপক্ষে পাকিস্তান বোর্ড একাদশ হয় খেলতে নেমেছিলেন রাকিবুল হাসান “জয়বাংলা” স্টিকারযুক্ত ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে।

স্বাধীনতার পূর্বে সেই ম্যাচটি হয়েছিল ঢাকার স্টেডিয়ামের শেষ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ম্যাচ। ঢাকার অদূরে অবস্থিত নতুন আরেকটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম মাঠ থাকায় এই মাঠ  2004-5 সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড থেকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ ওসমানী স্টেডিয়াম

stadiam5

নারায়ণগঞ্জ ওসমানী স্টেডিয়াম পূর্বে এর নামকরণ করা হয়েছিল ফতুল্লা ওসমানী স্টেডিয়াম,যা বর্তমানে খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম নামে পরিচিত।এটি প্রধানত বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলায় ফতুল্লায় অবস্থিত।উল্লেখিত এই মাঠে দর্শক ধারন ক্ষমতা প্রায় 25000।

বাংলাদেশের এই মাঠে 2004 সালে অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব 19 ক্রিকেট বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।ওই বিশ্বকাপের উদ্দেশ্যে মাঠটি সম্পূর্ণ নতুনভাবে সংস্কার করা হয়েছিল। এছাড়া 2011 সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ ইংল্যান্ড বনাম পাকিস্তানের মধ্যে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

প্রায় 25 হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এই স্টেডিয়ামটি 2014 সালের অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া কাপ প্রতিযোগিতায় অন্যতম প্রধান ক্রিকেট মাঠ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এই মাঠের আকৃতি হচ্ছে 181 মিটার এবং 154 মিটার। Refarens-sportsnet24

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *